এই লেখায়
সংক্ষিপ্ত উত্তর
দভোরঝাকের ‘নতুন বিশ্ব’ সিম্ফনিতে ইংলিশ হর্নের বাজানো সুরে পরে কথার সংযোজন হয়। 1922 সালে উইলিয়াম আর্মস ফিশার তৈরি করেন Goin’ Home। তার আগে সিম্ফনি লেখার দভোরঝাকের পাশে ছিলেন তরুণ সংগীতশিল্পী হ্যারি বারলি, যিনি মাতামহের কাছে শেখা কৃষ্ণাঙ্গদের স্পিরিচুয়াল বা ধর্মীয় গান শোনাতেন।
বিস্তারিত পাঠ
বাজনা শুনতে তুষারের মধ্যে অপেক্ষা করা তরুণ
আমেরিকার পেনসিলভানিয়ার ইরিতে বারলি বড় হন। মায়ের কাছে সংগীত ও মাতামহের কাছে কৃষ্ণাঙ্গদের স্পিরিচুয়াল শেখেন। তাঁর মাতামহ দাসজীবনের পরে টাকা দিয়ে নিজের স্বাধীনতা কিনেছিলেন। গির্জা ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে বারলি গান করেন; পিয়ানো ও কণ্ঠসংগীতও শেখেন। ইরির এপিসকোপাল ক্যাথেড্রাল, প্রেসবিটারিয়ান গির্জা ও ইহুদি উপাসনালয়ের গায়কদলে গান করেন। প্রার্থনার সময় আলাদা হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে পারতেন। পরিবারে শেখা গান ও স্থানীয় উপাসনার সংগীত পরে তাঁর গান ও বিন্যাসের কাজের অংশ হয়।
কৈশোরের শেষদিকে হাঙ্গেরির পিয়ানোবাদক রাফায়েল ইয়োজেফির বাজনা শুনতে বারলি একটি বাড়ির বাইরে তুষারের মধ্যে অপেক্ষা করেন। এলিজাবেথ রাসেলের বাড়ি ছিল এটি, যেখানে তাঁর মা কাজ করতেন। জাতিগত পরিচয় অনুযায়ী অতিথি গ্রহণ করা হত বলে শ্রোতা হিসেবে বারলি ঢুকতে পারতেন না। অবশেষে অসুস্থ হন। কারণ জানার পরে মা রাসেলকে ছেলেকে দারোয়ান হিসেবে কাজ দিতে বলেন। সেই কাজ করার সময় বারলি তেরেসা কারেনিয়ো ও ইতালো কাম্পানিনির মতো শিল্পীদের শোনেন।
1892 সালে বৃত্তি নিয়ে নিউ ইয়র্কের ন্যাশনাল কনসার্ভাতোয়ারে বারলি ভর্তি হন। একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন দভোরঝাক। তিনি প্রায়ই বারলিকে গান শোনাতে বলতেন। পরে বারলির স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, দিনে কাজের পরে রাতের খাবার শেষে সুরকার তাঁর গান শুনতেন। নিজের জানা কৃষ্ণাঙ্গদের গান গাইতেন বারলি। আমেরিকায় দভোরঝাকের সংগীতের অভিজ্ঞতার একটি ছিল অন্য শিল্পীর কণ্ঠ সরাসরি শোনা।
আমেরিকার সংগীত নিয়ে বিতর্ক
দভোরঝাককে আমন্ত্রণকারী কনসার্ভাতোয়ারের প্রতিষ্ঠাতা জ্যানেট থারবার আমেরিকায় সংগীতশিল্পী গড়তে চেয়েছিলেন। শ্বেতাঙ্গ নন এমন শিক্ষার্থীরাও প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তির সুযোগ পেতেন। দভোরঝাক সুররচনা শেখান ও অর্কেস্ট্রা পরিচালনা করেন। নিউ ইয়র্কে বিদ্যালয়ের বাইরে অনেক জার্মান শিল্পী ও সমালোচক ছিলেন; তাঁদের সঙ্গে তিনি জার্মান ভাষায় কথা বলতেন। চেক দেশ থেকে আসা সুরকার আমেরিকার ছাত্রদের শেখানো এবং ইউরোপের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের এই পরিবেশে ‘নতুন বিশ্ব’ সিম্ফনি প্রস্তুত করেন।
1893 সালের মে মাসে দভোরঝাক প্রকাশ্যে বলেন, আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গদের সুর থেকে দেশের নিজস্ব সুররচনার ঐতিহ্য গড়ে তোলা যায়। তখন অনেক আমেরিকান শিল্পী জার্মান সিম্ফনির ঐতিহ্যকে মানদণ্ড করতেন। হার্ভার্ডের জন নোল্স পেইন মনে করেন, সংবাদপত্র দভোরঝাকের কথা ভুল লিখেছে। সুরকার অ্যামি বিচ লোকসংগীত ব্যবহারে সম্মত হলেও কৃষ্ণাঙ্গ সংগীত পুরো আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করে কি না প্রশ্ন তোলেন। সুরকারদের কোন সংগীত শেখা উচিত তা নিয়ে বিতর্ক হয়।
দভোরঝাক চেক লোকসংগীত ও পশ্চিমা সুররচনার কৌশল একসঙ্গে ব্যবহার করতেন। আমেরিকায় শোনা গানেও পাঁচ স্বরের ভিত্তিতে সুর ও সিনকোপেশনের প্রতি মনোযোগ দেন। সিনকোপেশন হল সাধারণত দুর্বল স্থানে জোর দিয়ে ছন্দে পরিবর্তন তৈরি করা। তাঁর আগ্রহ শুধু পরিচিত গানের নাম নয়, সুর ও ছন্দ গড়ার পদ্ধতিতেও ছিল। বারলির শোনানো গান থেকে নতুন মূল সুর লেখেন এবং চার পর্বের সিম্ফনিতে তা বিকশিত করেন।
1893 সালের সিম্ফনি ও 1922 সালের গান
1893 সালে নিউ ইয়র্কে ‘নতুন বিশ্ব’ সিম্ফনি সম্পূর্ণ হয়। একই বছরের 16 ডিসেম্বর কার্নেগি হলে আন্তোন সাইডলের পরিচালনায় নিউ ইয়র্ক ফিলহারমনিক প্রথম পরিবেশনা করে। দ্বিতীয় পর্ব Largo-র পরিচিত মূল সুর দভোরঝাকের নিজের তৈরি। ইংলিশ হর্ন তা বাজায়। পুরোনো লোকগানের মতো সহজ বাক্যাংশ হলেও Goin’ Home নামের গানটি পরে তৈরি হয়। আজ সিম্ফনি ও গানে একই সুর শোনার পেছনে বিভিন্ন সময়ের সুররচনা ও বিন্যাস আছে।

দভোরঝাকের ছাত্র ছিলেন আমেরিকান শিল্পী ফিশার। তাঁর স্মৃতিচারণে, 1922 সালে Largo-র পিয়ানো বিন্যাস বাজানোর সময় ঘরে ফেরার কথা মনে আসে। সেই কথা গানের ভাষায় বাড়িয়ে Goin’ Home তৈরি করেন। সিম্ফনির সুরে মানুষের কণ্ঠ ও বাক্য যোগ করেন তিনি। ঘরে ফেরার শিরোনাম জেনে শুনলে একই সুরে গানের কথা মনে আসে। আগে প্রকাশিত অর্কেস্ট্রা রচনা পরের গানের নামে স্মরণ করার প্রক্রিয়াও এভাবে গড়ে ওঠে।

1922 সালে বোস্টনের অলিভার ডিটসন ফিশারের Goin’ Home প্রকাশ করে। নিচু কণ্ঠ ও পিয়ানোর জন্য প্রথম দিকের স্বরলিপিও সংরক্ষিত আছে। প্রচ্ছদে ‘নতুন বিশ্ব’ সিম্ফনির Largo থেকে নেওয়া সংগীতের পরিচয় এবং দভোরঝাক ও ফিশারের নাম আছে। গায়ক ফিশারের কথা গান, পিয়ানোবাদক অর্কেস্ট্রার বদলে সঙ্গত করেন। অর্কেস্ট্রার সুর একক কণ্ঠ ও পিয়ানোর একসঙ্গে পরিবেশনার জন্য সাজানো হয়েছে।
আমেরিকায় চেকভাষী গ্রাম
সিম্ফনি শেষের পরে 1893 সালের গ্রীষ্মে আইওয়ার স্পিলভিলে থাকেন দভোরঝাক। সহকারী ইয়োজেফ কোভারঝিক নিজের শহর ছুটির স্থান হিসেবে প্রস্তাব করেন। চেক অভিবাসীদের ছোট গ্রামে চেক ভাষায় প্রার্থনার গির্জা ও বিদ্যালয় ছিল। ইউরোপে থাকা সন্তানেরা আমেরিকায় এলে পরিবার একসঙ্গে ট্রেনে যায়। দেশের বন্ধুদের চিঠিতে স্পিলভিলের জীবনকে বোহেমিয়ার ভিসোকায় থাকার সঙ্গে তুলনা করেন দভোরঝাক।

ভোরে হাঁটতেন এবং সেন্ট ভাৎসলাভ গির্জায় অর্গান বাজাতেন দভোরঝাক। সকালে সুর লিখতেন, বিকেলে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন বা আশপাশের গ্রামে যেতেন। সন্ধ্যায় বাসিন্দাদের আমেরিকায় বসতি গড়ার অভিজ্ঞতা শুনতেন। পরিচিত স্তোত্র অর্গানে বাজানো গ্রামের প্রবীণদের ভালো লাগত। এই গ্রীষ্মে ‘আমেরিকান’ স্ট্রিং কোয়ার্টেট ও স্ট্রিং কুইন্টেট লেখেন। চেক ভাষায় কথা বলার প্রতিবেশী ও আবার একত্র পরিবারের পাশে লেখা দুই রচনা নিউ ইয়র্কের সিম্ফনির পরে তাঁর আমেরিকান জীবনের পরিচিত সংগীত হয়।
দভোরঝাককে গান শোনানো শিল্পীর পরবর্তী কাজ
1892 সালে সোপ্রানো সিসিয়েরেতা জোনসের সঙ্গে কার্নেগি হলে বারলি গান করেন। কনসার্ভাতোয়ার ছাড়ার পরেও গায়ক ও সুরকার হিসেবে কাজ চালান। পরে সেখানেই নিজের গান এবং অন্য শিল্পীর অনুষ্ঠানে নিজের স্পিরিচুয়াল বিন্যাসের পরিবেশনা নিয়ে কাজ করেন। দভোরঝাককে স্পিরিচুয়াল শোনানো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি নিজে মঞ্চে গান করা, রচনা লেখা ও নিজের কর্মজীবন চালানো শিল্পীও ছিলেন বারলি। সেই গানের ঐতিহ্য তিনি পরেও অনুষ্ঠান ও প্রকাশের মাধ্যমে পৌঁছে দেন।

1894 সালে নিউ ইয়র্কের সেন্ট জর্জ এপিসকোপাল গির্জায় একক গায়কের পদ পান বারলি। কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার কারণে কিছু সদস্য আপত্তি করলেও সেখানে দীর্ঘদিন গান করেন। অন্য উপাসনালয়েও গান করেন, প্রকাশকের কাছে স্বরলিপি সম্পাদনা করেন এবং নিজের গান ও স্পিরিচুয়ালের বিন্যাস প্রকাশ করেন। দভোরঝাকের সিম্ফনিতে স্পিরিচুয়ালের প্রভাব পড়ার গল্পের সঙ্গে বারলির পরের কাজও দেখা যায়। ছোটবেলায় পরিবারে শেখা গান কনসার্টে গাওয়ার উপযোগী করে সাজানো তাঁর চলমান কাজ ছিল।
বারলির সাজানো Deep River 1916 সালে রেকর্ড করা হয়। ব্যারিটোন অস্কার সিগল অর্কেস্ট্রার সঙ্গতে গান করেন। নতুন গান রচনা নয়, প্রচলিত গান পরিবেশনার উপযোগী করা ছিল এখানে বারলির কাজ। ঐতিহ্যের গান একক গায়কের জন্য সাজান তিনি। ‘নতুন বিশ্ব’র Largo-র পরে এই রেকর্ড শুনলে দভোরঝাককে শোনানো ঐতিহ্য ও বারলির নিজের বিন্যাসের কাজ, দুটিই দেখা যায়। Deep River ও Goin’ Home ভিন্ন পথে গায়কদের পরিবেশনার তালিকায় এসেছে।
মাহিনায় Largo
মাহিনার দুপুর ও রাতের সংগীতে মারিস ইয়ানসনসের পরিচালিত Largo-র সূচনা আছে। রাতে শলতির পরিচালনা ও লন্ডন ফিলহারমনিকের পরিবেশনাও শুনবেন। সম্পূর্ণ Largo-তে ইংলিশ হর্নের সুরের পরে বিপরীত চরিত্রের সংগীত আসে, তারপর প্রথম সুর ফিরে আসে।
Largo-র সঙ্গে শোনার আরেকটি রচনা বারলির সাজানো Deep River। Goin’ Home-এ অর্কেস্ট্রার সুরে নতুন কথা যোগ করেন ফিশার। Deep River-এ প্রচলিত স্পিরিচুয়াল একক কণ্ঠ ও সঙ্গতের জন্য সাজান বারলি। একটি সিম্ফনি থেকে গান, অন্যটি মানুষের প্রচলিত ধর্মীয় গান থেকে কনসার্টের সংগীতে আসে। তাঁদের প্রকাশিত স্বরলিপিতে নিজের নাম রয়েছে এবং গায়কেরা দুই শিল্পীর সংগীত গেয়ে চলেন। সিম্ফনির ইংলিশ হর্ন ও একক কণ্ঠে একই সুরের Goin’ Home এবং বারলির বিন্যাসে Deep River পাশাপাশি শুনতে পারেন।
মাহিনায় যে সংগীত শুনবেন
মাহিনায় আমরা ‘নতুন বিশ্ব’ সিম্ফনির Largo শোনাই। এই সুর উপলক্ষে সঙ্গে আসা মানুষের সঙ্গে নিজের শহরে শোনা গানের কথা বলতে পারেন। দভোরঝাক ও বারলির গানের আদানপ্রদানের সঙ্গে নিজের স্মৃতিও যোগ করার আলোচনা হতে পারে।





